‘নতুন সিরিয়া’ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল দ্বন্দ্ব আরও তীব্র
মার্কিন প্রশাসনের সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিস্তারের উদ্যোগ এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী মাঠপর্যায়ের নীতি—দুইয়ের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোনো মিত্র ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
গত ১৯ নভেম্বর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সিরিয়া সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দেশের শীর্ষ প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এই সফরের মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে দু’দেশের অবস্থানের ফারাক।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদঅন সা’আর বুধবার জানান, সিরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে গেছে। তাঁর ভাষায়, ‘‘দুই পক্ষ এখন কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় আরও দূরে অবস্থান করছে’’ এবং ‘‘নতুন নতুন দাবি উঠে আসায় মতপার্থক্য অনেক বেড়েছে।’’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর বিশ্লেষণ বলছে, আসাদ সরকারের পতনের এক বছর পর ‘নতুন সিরিয়া’–র ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই বিরল ধরণের কূটনৈতিক টানাপোড়েন দৃশ্যমান হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘‘ক্রমবর্ধমানভাবে’’ কাজ করছে। তাঁর দাবি, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সিরীয় বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও অপারেশনাল ক্ষমতায়নের মাধ্যমে অন্তত ২০টির বেশি অভিযানে অংশ নিয়েছে—যার লক্ষ্য ছিল আইএস-এর নেটওয়ার্ক দমন এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র পাচার ঠেকানো।
কুপার বলেন, ‘‘এই সাফল্যগুলো সরকারি সিরীয় বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ছাড়া সম্ভব হতো না।’’
‘নতুন সিরিয়া’কে কেন্দ্র করে দুই প্রধান মিত্রের এই নীতি–বৈপরীত্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।