ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, ট্রাম্পের নজর ভেনেজুয়েলায়
ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েন দ্রুত বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি ভেনেজুয়েলায় সশস্ত্র অভিযান চালাতে নতুন অনুমোদন প্রয়োজন কিনা তা নিয়ে।
ভেনেজুয়েলার সরকার জানিয়েছে, তারা “সিআইএ–এর হয়ে কাজ করা ভাড়াটে সেনাদের” আটক করেছে, যারা দেশটির অভ্যন্তরে “বিভ্রান্তিমূলক হামলা” চালানোর পরিকল্পনা করছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশে গাইডেড মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস গ্রেভলি’ রবিবার ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাজধানী পোর্ট অব স্পেনে নোঙর করেছে। দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যৌথ সামরিক মহড়া চলবে। ত্রিনিদাদের প্রধানমন্ত্রী ক্যমিলা পেসিসার বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে মার্কিন উপস্থিতি তিনি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন।
মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেনিফার অর্টিজ জানান, এসব মহড়ার লক্ষ্য “সীমান্ত–পেরোনো অপরাধ ও সংগঠিত মাদক কারবার দমন এবং মানবিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।”
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক পাচারের দায়ে অভিযুক্ত করেছে, যদিও প্রমাণ উপস্থাপন না করায় কংগ্রেসে সমালোচনা চলছে। সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, “এই অভিযানের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই—এটি কার্যত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।”
অন্যদিকে সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, “মাদুরো ও তার সহযোগীদের সময় শেষ” এবং শিগগিরই কংগ্রেসকে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্রিফ করা হবে।
বর্তমানে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি যুদ্ধজাহাজ ও একাধিক এফ–৩৫, এফ–১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছেছে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এসব মহড়াকে “আগ্রাসী উসকানি” ও “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।