মার্কিন শান্তি–প্রস্তাব: দোনবাস রাশিয়ার হাতে, ন্যাটো থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে ইউক্রেনকে
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে একটি নতুন শান্তি–পরিকল্পনা সামনে এনেছে, যেখানে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—দুই পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৪ সালে সংযুক্ত ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন প্রশাসনের ২৮ দফা এই প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়ে আছে। পরিকল্পনায় দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল ভাগাভাগির ধারণা উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি শর্ত রয়েছে—ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগদানের স্বপ্ন ত্যাগ করে তা সংবিধান থেকেও বাতিল করতে হবে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যা ৬ লাখে সীমিত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কির অবস্থান
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের যে কোনো চুক্তিই হতে হবে “মর্যাদাপূর্ণ শান্তি”, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। তিনি জানান, খুব শিগগিরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করবেন।
ওয়াশিংটনের ব্যাখ্যা
হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে প্রণীত এই পরিকল্পনা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের জন্য “সমভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান” হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েক মাস ধরে গোপনে আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন।
ইউরোপের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, ইউক্রেন ও ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শান্তি–চুক্তি সফল হবে না। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবটি এখনও “গুরুতর প্রশ্নের” মুখোমুখি।
রাশিয়ার অগ্রগতি দাবি
এদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুপিয়ানস্কসহ কয়েকটি এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে। রুশ সেনাবাহিনী প্রায় সব ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা
প্রস্তাব অনুযায়ী, শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে একটি “শান্তি পরিষদ” গঠন করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন তদারকি করা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইউক্রেনের পুনর্গঠনে রাশিয়ার জব্দ সম্পদ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়া আবারও আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রেরা সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেবেন।