Tranding
আর্ন্তজাতিক / November 19, 2025

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান: ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’ জোরদারের প্রতিশ্রুতি

ওয়াশিংটনে এক অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দুই দেশের মধ্যে “সীমাহীন অংশীদারত্ব” আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজকে দেওয়া হয় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা।

সংবর্ধনার অংশ হিসেবে আকাশে প্রদর্শনী করে যুক্তরাষ্ট্রের এফ–১৬ ও এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান, পাশাপাশি অংশ নেয় মার্কিন মেরিন কর্পসের বিশেষ গার্ডদল। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজকে গভীরভাবে সম্মান করেন এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার “দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু”।

দুই নেতার বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি খাতে নতুন সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, সৌদি–মার্কিন সম্পর্ক “অপরিবর্তনীয়” এবং এ সম্পর্ক দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইতিহাস প্রায় নয় দশক পুরোনো।

সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে যুবরাজ জানান, এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, “এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো সীমা নেই। সব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা ক্রমাগত এগিয়ে যাব।”

দুই দেশ একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সৌদির সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

আঞ্চলিক ইস্যুতেও নেতারা মতবিনিময় করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নে সৌদির উদ্যোগের প্রশংসা করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

ফিলিস্তিন–ইসরায়েল ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির পরিধি বাড়াতে চান এবং আলোচনায় দুই রাষ্ট্র সমাধানও উঠে আসে। যুবরাজও দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাঁর অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায় সৌদি আরব, তবে একই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে দুই রাষ্ট্র সমাধানের একটি স্পষ্ট পথ নির্ধারিত হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মাননীয় প্রেসিডেন্ট, আজ আপনার সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে সঠিক পরিবেশ তৈরি করতে যৌথভাবে কাজ করব।”

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.