Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 23, 2025

চীনে সমুদ্রের তলদেশে বিপুল স্বর্ণের সন্ধান, এশিয়ার বৃহত্তম স্বর্ণখনি হওয়ার দাবি

চীনে সমুদ্রের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। চীনা সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সমুদ্রতলভিত্তিক স্বর্ণখনি হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চীনা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই শহরের লাইঝৌ উপকূলের কাছে সমুদ্রের তলায় এই স্বর্ণের মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবিষ্কৃত স্বর্ণের পরিমাণ প্রাথমিক অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন স্বর্ণখনি যুক্ত হলে লাইঝৌ অঞ্চলে মোট স্বর্ণের মজুত বেড়ে ৩ হাজার ৯০০ টনেরও বেশি হতে পারে, যা চীনের মোট স্বর্ণ মজুতের প্রায় ২৬ শতাংশ। এর ফলে স্বর্ণের মজুত ও উৎপাদন— দুই ক্ষেত্রেই চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইয়ানতাইয়ের স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে স্বর্ণ শিল্প সংক্রান্ত বর্তমান পরিকল্পনার পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রকাশ করেছে। এর আগেও চীন একাধিক বড় স্বর্ণখনি আবিষ্কারের ঘোষণা করেছে। গত মাসে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশে প্রায় ১ হাজার ৪৪৫ টন স্বর্ণ মজুতের একটি খনির সন্ধান মেলে, যা ১৯৪৯ সালের পর দেশটিতে আবিষ্কৃত বৃহত্তম একক স্বর্ণখনি বলে দাবি করা হয়েছিল।

নভেম্বরে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কুনলুন পর্বতমালায়ও এক হাজার টনের বেশি স্বর্ণ মজুতের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়। এর আগে শানডং প্রদেশ সরকার জানিয়েছিল, দেশের মোট স্বর্ণ মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রদেশেই অবস্থিত, যার বড় অংশ রয়েছে জিয়াওডং উপদ্বীপের লাইঝৌ এলাকায়।

চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বর্ণ আকরিক উৎপাদক। গত বছর দেশটির স্বর্ণ উৎপাদন প্রায় ৩৭৭ টনে পৌঁছেছে। তবে মোট স্বর্ণ মজুতের নিরিখে এখনও দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার পিছনে রয়েছে চীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রার ওঠানামার কারণে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স, মহাকাশ প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন শিল্পেও স্বর্ণের গুরুত্ব বাড়ছে।

চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খনিজ অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে দেশটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত রেডার ব্যবস্থা এবং উপগ্রহ প্রযুক্তির সাহায্যে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। শুধু গত বছরই খনিজ অনুসন্ধানে চীন প্রায় ১১ হাজার ৫৯৯ কোটি ইউয়ান ব্যয় করেছে। ২০২১ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই খাতে মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ইউয়ান, যার ফলে অন্তত ১৫০টিরও বেশি নতুন খনি আবিষ্কৃত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে চীনের এই ধারাবাহিক স্বর্ণ আবিষ্কার আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.