ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি এই ঘোষণা দেয়, বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টা ও স্বৈরাচার থেকে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে রূপান্তরের সংগ্রামের জন্য মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।”
নোবেল কমিটি আরও জানায়, “যখন স্বৈরশাসকেরা ক্ষমতা দখল করে, তখন সাহসী স্বাধীনতাকামীদের সম্মানিত করা প্রয়োজন যারা উঠে দাঁড়ায় ও প্রতিরোধ করে।”
এ বছর নোবেল কমিটি বিশেষভাবে ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন এক সময়ে যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে তিনিই শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রাম্প নোবেল পাবেন না, কারণ তিনি বিশ্বব্যবস্থা ভাঙার চেষ্টা করছেন, যা নোবেল কমিটি সমর্থন করে না।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে ১০ ডিসেম্বর, নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেল-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে।
কে এই মারিয়া কোরিনা মাচাদো?
১৯৬৭ সালে ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া মাচাদো দেশেই বসবাস করেন। তিনি প্রকৌশল ও আর্থিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৯২ সালে কারাকাসে পথশিশুদের সহায়তায় ‘আতেনেয়া’ ফাউন্ডেশন গঠন করেন।
২০০২ সালে তিনি সুমাতে (Sumate) নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রচারে কাজ করে। ২০১০ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বাধিক ভোট পান, কিন্তু ২০১৪ সালে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়।
তিনি বিরোধী দল ভেনটে ভেনেজুয়েলা-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ২০১৭ সালে Soy Venezuela নামের গণতন্ত্রপন্থী জোট গঠনে ভূমিকা রাখেন।
২০২৩ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হন, কিন্তু সরকারের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে অংশ নিতে পারেননি। এরপর তিনি বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেস ওরটিয়া-কে সমর্থন করেন। নির্বাচনে বিরোধী দলের জয়ের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার নিজের জয় ঘোষণা করে ক্ষমতায় থেকে যায়।