যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভেনিজুয়েলাবাসী
কারাকাস, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আহ্বানে হাজারো নাগরিক সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে সেনা ব্যারাকে জড়ো হয়েছেন। মাদুরো সেনা রিজার্ভ, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তরুণদের অস্ত্র চালানো শিখে দেশ রক্ষায় প্রস্তুত হতে বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি মার্কিন সেনারা আমাদের ভূমিতে পা রাখে, তবে গুলিতেই তাদের মোকাবিলা করা হবে।”
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসের ফোর্ট টিউনা সামরিক ঘাঁটিতে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবকরা জড়ো হন। তাদের মধ্যে কেউ বেসামরিক পোশাকে, কেউবা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আসেন। সরকারি সমর্থক যুব সংগঠনের সদস্যরাও জানিয়েছেন, তারা প্রয়োজনে “খালি হাতে হলেও” নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত।
নতুনদের উদ্দেশে এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, “এটি কোনো রাস্তার আন্দোলন নয়, এটি হবে আসল যুদ্ধ। এখানে প্রয়োজন শৃঙ্খলা ও প্রতিশ্রুতি।” প্রশিক্ষণে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা — কালাশনিকভ রাইফেল খোলা-জোড়া, মার্কিন হস্তক্ষেপের কৌশল ব্যাখ্যা এবং গুলি ছাড়া অনুশীলন।
মাদুরো সীমান্তে ২৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছেন এবং প্রতিরক্ষা কৌশল ঘোষণা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনকে “মাদকবিরোধী অভিযান” নয় বরং সরাসরি হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগ তুলেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
আইনজীবী জেনি রোজাস বলেন, “যদি তারা আক্রমণ করে, সমগ্র জনগণ ভেনিজুয়েলাকে রক্ষা করবে, যেমন একসময় বলিভার করেছিলেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে উভয় পক্ষ শক্তি বাড়াতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে এবং সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।