Tranding

যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ ভেনেজুয়েলার অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা অর্থ ধীরে ধীরে ছাড় দিতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রদ্রিগেজ বলেন, এসব অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণের সম্পদ এবং তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, অর্থ ছাড়ের ফলে স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সম্ভব হবে, বিশেষ করে হাসপাতালের আধুনিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে।

তবে ঠিক কত অর্থ মুক্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ করেননি তিনি।

২০১৯ সাল থেকে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। সে বছর বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোর পুনর্নির্বাচনের পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মধ্যে একাধিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

রদ্রিগেজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে নিয়মিত ও সৌজন্যপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রেখে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি রদ্রিগেজের নেতৃত্বকে শক্তিশালী বলে উল্লেখ করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন থেকে একটি অংশ পাচ্ছে। যদিও রদ্রিগেজ স্পষ্ট করে বলেন, ভেনেজুয়েলা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীন নয়।

এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় নতুন ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে লরা এফ. ডোগোকে অনুমোদন দিয়েছে। তিনি এর আগে নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ২০১৯ সালে ছিন্ন হওয়া পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নিকোলাস মাদুরো দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে আটকে রয়েছে।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.