১৬ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ওয়াকফ জনসভা, রাজ্যজুড়ে গড়বে হেল্প ডেস্ক – সিদ্ধান্ত মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের
নতুন দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বোর্ডের কার্যনির্বাহী সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রহমানির সভাপতিত্বে। বৈঠকে ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন, সংশোধিত ওয়াকফ আইন ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
‘উমিদ’ পোর্টাল নিয়ে ক্ষোভ:
ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকার চালু করা ‘উমিদ’ পোর্টালের নানা সমস্যা নিয়ে সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠে, পোর্টালটি প্রায়ই ক্র্যাশ করে, একটি মাত্র নথি আপলোড করতেও সময় লাগে ৪০-৪৫ মিনিট। প্রয়োজনীয় নথির একটিও অনুপস্থিত থাকলে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়।
এই সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি রাজ্য এবং তার রাজধানীতে ওয়াকফ হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। এই হেল্প ডেস্কগুলো মুতাওয়াল্লি (ওয়াকফ ট্রাস্টি) ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নথি আপলোডে সাহায্য করবে এবং প্রক্রিয়ার দিশা দেখাবে।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদন, শুনানি ২৮ অক্টোবর:
বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে যাতে পোর্টালের সময়সীমা বাড়ানো হয় এবং সিস্টেমটি আরও ব্যবহারকারী-বান্ধব করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৮ অক্টোবর। বোর্ডের আইনি দলের সদস্য ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট এম. আর. শামশাদ আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন। তবে সদস্যদের অনেকেই আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেন, কারণ তা মূল বিতর্কিত ধারাগুলিতে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দেয়নি বলে অভিযোগ।
ওয়াকফ আইন (সংশোধনী) ২০২৫-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন:
‘তাহাফফুজ-এ-আওকাফ’ (ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষা) অভিযানের আহ্বায়ক ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস জানান, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফার আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ১৬ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হবে। এই সভাকে সফল করতে দেশজুড়ে ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা চাওয়া হবে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যে বড় জনসভাও করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের উপস্থিতি:
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদি। সহ-সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খান আজমি, মাওলানা আসগর আলী ইমাম মেহেদি, সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাওলানা সৈয়দ বিলাল আব্দুল হাই হাসানি নদভী, মাওলানা ইয়াসিন আলী উসমানি, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. রিয়াজ উমর, মুখপাত্র ড. এস. কিউ. আর. ইলিয়াস, মহিলা শাখার ইনচার্জ অ্যাডভোকেট জলিসা সুলতানা ইয়াসিন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, মাওলানা এম.এল.এস মাহমুদ আসাদ মাদনী, মুফতি আহমদ দেওলভি, মাওলানা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি, বিধায়ক আরিফ মাসুদ, অ্যাডভোকেট হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী, মাওলানা খালিদ রশিদ ফিরিঙ্গি মহল্লী, ড. এম. সৌদ আলম কাসমি, অধ্যাপক হাসিনাহ হাসিয়া, মিসেস রহমতউন্নিসা ও ড. সামরা সুলতানা প্রমুখ।
বোর্ডের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, সমস্ত রাজ্য ও সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওয়াকফ সম্পত্তির সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে।