মঙ্গলবার প্রকাশ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের খসড়া ভোটার তালিকা, আগেভাগেই বিএলও অ্যাপে দেখা যাচ্ছে নাম
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হবে। তবে তার আগের দিন থেকেই বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) ব্যবহারের জন্য তৈরি বিএলও অ্যাপে সেই খসড়া তালিকা দেখা যাচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
কমিশনের দফতরে বর্তমানে চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট বুথ অনুযায়ী ভোটারদের নাম ইতিমধ্যেই বিএলও অ্যাপে আপলোড করা হয়েছে। যদিও সাধারণ ভোটাররা এই তালিকা দেখতে পারবেন খসড়া প্রকাশের পরেই।
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের পরামর্শ দিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নিজেদের নাম রয়েছে কি না তা অবশ্যই যাচাই করে নিতে। কমিশনের মতে, বিএলও-দের সঙ্গে যোগাযোগ করে অথবা ‘ইসিআইনেট’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই যাচাই করা সম্ভব। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর ওয়েবসাইট থেকেও ভোটাররা তথ্য জানতে পারবেন।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ, একাধিক জায়গায় নাম থাকা এবং যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে চাননি—এমন ভোটারদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন।
এই বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন—
২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২ জন মৃত ভোটার
১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন নিখোঁজ ভোটার
১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন স্থানান্তরিত ভোটার
১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৮ জন ভুয়ো ভোটার
৫৭ হাজার ৬০৪ জন যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম জমা দেননি
এই সমস্ত নাম বাদ দিয়ে খসড়া তালিকায় মোট ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআর কর্মসূচির সূচি ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সময় রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক ভোটারের জন্য এনুমারেশন ফর্ম ছাপিয়ে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন।
জেলা স্তরে ইতিমধ্যেই সিইও দফতরের ওয়েবসাইট চালু হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার ভোটাররা নিজেদের নাম যাচাই করতে পারবেন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর অনেক ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। সেই শুনানির ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
ভোটকর্মী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শুনানির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নোটিস যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
এসআইআর প্রক্রিয়ার এই ধাপকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তৎপরতা বেড়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পথে কোন কোন নাম জায়গা পাচ্ছে এবং কারা বাদ পড়ছেন।