শীতকালে কখন রাতের খাবার খেলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে? ওজন ও ঘুমের ওপর প্রভাব জানাল গবেষণা
শীতকালে দিনের আলো কমে যাওয়া ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে অনেকেই বাড়িতে বেশি সময় কাটান এবং আরামদায়ক খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে রাতের খাবার খাওয়ার সময় ঠিক না হলে তা শরীরের ওজন, বিপাকক্রিয়া ও ঘুমের মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীর একটি স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যা ঘুম, হজম, হরমোন নিঃসরণ ও বিপাকক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘড়ি মূলত দিনের আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। শীতকালে যেহেতু সূর্যের আলো দ্রুত কমে যায়, তাই শরীরের বিপাকক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে ধীর হয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের খাবার দেরিতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে এবং শরীরের চর্বি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা রাত ১০টার দিকে খাবার খান, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বেড়ে যায় এবং চর্বি পোড়ানোর হারও কমে যায়, তুলনায় যারা সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করেন।
বিভিন্ন গবেষণার বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, দিনের প্রথম ভাগে বেশি ক্যালরি গ্রহণ এবং রাতের খাবার আগেভাগে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো বিপাকজনিত সূচকগুলোর উন্নতি ঘটে।
অন্যদিকে, নিয়মিত গভীর রাতে বা ঘুমের ঠিক আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
শীতকালে কেন সমস্যা বাড়ে?
শীতকালে দিনের আলো কম থাকায় শরীরের জৈবিক ঘড়ি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। সূর্যালোক কম পাওয়ার কারণে মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ফলে অনেকেই রাতে দেরিতে খাবার খান বা অতিরিক্ত নাশতা করেন। এই অভ্যাস ঘুম ও হজম—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলে।
রাতের খাবারের আদর্শ সময়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শীতকালে রাতের খাবার যতটা সম্ভব আগেভাগে খাওয়া উচিত। আদর্শ সময় সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে সাতটার মধ্যে, অথবা ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা ভালো।
পাশাপাশি প্রতিদিন একই সময়ের মধ্যে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি সঠিকভাবে কাজ করে। রাতের খাবার হালকা রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্যালরির বড় অংশ সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার থেকে নেওয়াকেই স্বাস্থ্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাঁদের মতে, এই নিয়ম মেনে চললে শীতকালেও সুস্থ থাকা, ভালো ঘুম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠতে পারে।