শুধু কী খাবেন তা নয়, কখন খাবেন সেটিও জরুরি: ওজন নিয়ন্ত্রণে "টাইমিং" বড় ভূমিকা রাখে
নিউইয়র্ক, সঠিক খাবার নির্বাচন যেমন জরুরি, তেমনি খাবারের সময়ও শরীরের ওজন ও স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গবেষকরা বলছেন, “খাবারের টাইমিং” বা ক্রোনোনিউট্রিশন (Chrononutrition) শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের সামঞ্জস্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সারাদিন ব্যস্ত থাকেন, নিয়মিত সময়ে খাবার খেতে পারেন না বা রাতের দিকে বেশি খান, তাদের ক্ষেত্রে বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ অধ্যাপক লিসা ইয়াং বলেন, “যদি আপনার খাবার গ্রহণের সময় শরীরের প্রাকৃতিক ছন্দের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।”
🔹 সময়মতো খাবার কেন জরুরি?
বিশেষজ্ঞ জন হাওলি, অস্ট্রেলিয়ার ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির মানব কর্মক্ষমতা ও বিপাক কেন্দ্রের পরিচালক, জানান যে প্রতিদিনের খাবার গ্রহণের সময়সীমা কমিয়ে আনা উপকারী হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি সকাল ৭টায় নাশতা করেন এবং রাত ৮টায় রাতের খাবার খান, তবে সেই সময়সীমা ১০ বা ১১ ঘণ্টায় নামিয়ে আনলে ওজন ও রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “টাইম-রেস্ট্রিকটেড ইটিং (সময়সীমাবদ্ধ খাওয়া) এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এক জিনিস নয়। পরেরটি শরীরের প্রাকৃতিক রিদম নষ্ট করে।”
🔹 রাতে দেরি করে খাওয়ার ক্ষতি
রাতে দেরি করে ভারী খাবার খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা ঘুম ও বিপাক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যার আগেই রাতের খাবার সেরে ফেললে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।
🔹 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ঘুম ও খাবারের নিয়মিত সময় বজায় রাখুন।
ঘুমানোর আগে হালকা খাবার নিন, যেমন প্রোটিন বা সালাদ।
রাতের খাবারে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও তেল এড়িয়ে চলুন।
হাওলি বলেন, “আগামী দশকে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে খাবারের সময় নিয়ন্ত্রণকেও পুষ্টি নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”