গাজায় নিহত ইসরায়েল সমর্থিত ‘দোসর’ আবু শাবাব: কে ছিলেন তিনি?
গাজার রাফা এলাকায় ইসরায়েল সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসের আবু শাবাব নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। হামাস বিরোধী অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে তাকে ‘দোসর’ এবং অপরাধী হিসেবে ধরা হতো।
২০২৩ সালের হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সময় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু শাবাব কারাগার থেকে পালিয়ে ইসরায়েলের পক্ষে কাজ শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরিসহ নানা অভিযোগ ছিল। ৩০ বছর বয়সী আবু শাবাব দক্ষিণ গাজার বেদুইন গোত্র ‘তারাবিন’ এর সদস্য ছিলেন। গাজার স্থানীয়দের কাছে শুরুতে তেমন পরিচিত না হলেও পরে তিনি “অ্যান্টি-টেরর সার্ভিস” নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে তুলে “পপুলার ফোর্সেস” নামে পরিচিত হন। এই বাহিনী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং নিজেদের হামাসবিরোধী জাতীয়তাবাদী বাহিনী হিসেবে পরিচয় দিত।
তবে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কম ছিল। আবু শাবাবের অতীত অপরাধে পূর্ণ ছিল, বিশেষ করে মাদক ও লুটপাটের অভিযোগে। যুদ্ধের শুরুতে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা গড়ে তোলেন, যা অধিকাংশ ফিলিস্তিনির কাছে অগ্রহণযোগ্য ছিল। এমনকি তার নিজ গোত্রও এক বিবৃতিতে তার মৃত্যু “গোত্রের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়ের সমাপ্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রাজনৈতিক অবস্থানে আবু শাবাব কখনো স্পষ্ট ছিলেন না। অধিকাংশ পর্যবেক্ষকের মতে, তিনি আদর্শের চেয়ে ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিলেন। সিনাই থেকে গাজায় পণ্য ও অস্ত্র পাচারের সঙ্গে তার নাম জড়িত থাকলেও তা আদর্শিক নয়, বরং স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা হিসেবে ধরা হয়।
তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উপস্থিতিও অস্বাভাবিক ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে তার বাহিনী রাফাহর পূর্বাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং “নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে প্রস্তুত।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে হামাসবিরোধী লড়াইয়ে তারা স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে আবু শাবাবের বাহিনীকে ব্যবহার করেছে।
পপুলার ফোর্সেস নিজেদের মানবিক সহায়তা বিতরণে নিয়োজিত হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলেও তাদের বিরুদ্ধে লুটপাট ও সহায়তা কনভয় থেকে মালপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ নথিতে আবু শাবাবকে “বৃহৎ ও সংগঠিত লুটপাটের প্রধান” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাজার নিরাপত্তা সূত্রও জানায়, এই বাহিনী ইসরায়েল সমর্থিত অঞ্চলে সহায়তা সামগ্রী লুট করেছে, যা ইসরায়েলি অবরোধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের সময়ে তাকে জনসাধারণের কাছে আরও অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।
আবু শাবাবের মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি কখনো হামাসের বিকল্প জনপ্রিয় নেতৃত্বে পরিণত হননি। অনেকের মতে, তার এই অবস্থা ও মৃত্যুর পরিণতি সময়ের অপেক্ষা ছিল। গাজার সাধারণ মানুষ, এমনকি হামাসবিরোধীরাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেনি। তার জীবন ও মৃত্যু ফিলিস্তিনি রাজনীতির জটিলতা ও বহিরাগত প্রভাবের একটি প্রতিফলন বলে বিবেচিত হচ্ছে।