শীতকালে কেন বেশি ক্ষুধা লাগে? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
শীতের মৌসুম এলেই অনেকের মধ্যেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ক্ষুধা অনুভব করার প্রবণতা দেখা যায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মানুষ সাধারণত বেশি পরিমাণে খাবার, বিশেষ করে উষ্ণ ও আরামদায়ক খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি ক্ষুধার পেছনে কেবল ঠান্ডা নয়, বরং দিনের আলো কমে যাওয়া এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখে।
পুষ্টি ও স্নায়ুবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা জানান, শীতকালে দিনের সময় কমে যাওয়ায় শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম বা জৈবিক ঘড়িতে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে সামান্য পরিবর্তন আসে, যা মানুষকে বেশি খেতে উৎসাহিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম সূর্যালোক শরীরের মেজাজ ও শক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন, যা সাময়িকভাবে ভালো লাগার অনুভূতি দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে একজন মানুষের ওজন গড়ে আধা থেকে এক কেজি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে ঠান্ডা আবহাওয়া সরাসরি ক্ষুধা বাড়ায়—এমন প্রমাণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, শরীর গরম রাখতে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হতে পারে, আবার অন্য অংশের মতে এই প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন শীতের অতিরিক্ত ক্ষুধা?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে কিছু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন—
নিয়মিত সময়ে খাবার খাওয়া: নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার খেলে শরীরের জৈবিক ছন্দ ঠিক থাকে।
প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ: প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
মশলা ব্যবহারে সচেতনতা: ঝাল ও উষ্ণ মশলা সামান্যভাবে ক্ষুধা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
খাবারের আগে পানি পান: খাবারের আগে পানি বা ভেষজ চা পান করলে অতিরিক্ত খাওয়া কমানো সম্ভব।
ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর: পর্যাপ্ত ঘুম, আলোতে থাকা ও মানসিক চাপ কমানো ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্যালরি কমানোর দিকেই নয়, বরং জীবনযাত্রার সামগ্রিক অভ্যাসের দিকে নজর দিলেই শীতকালে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।