Tranding
জাতীয় খবর / September 19, 2025

‘অপারেশন সিঁদুর’ কেন হয়েছিল গভীর রাতে? ব্যাখ্যা করলেন সেনা সর্বাধিনায়ক অনিল চৌহান

নয়াদিল্লি: কাশ্মীরের পাহেলগাঁও হত্যালীলার প্রত্যাঘাত হিসেবেই ৬ মে গভীর রাতে চালানো হয় ভারতের বিশেষ সামরিক পদক্ষেপ ‘অপারেশন সিঁদুর’। রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। কেন এই অভিযান রাতেই চালানো হয়েছিল, সে নিয়েই অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক (সিডিএস) অনিল চৌহান।

বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির রাজভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চৌহান বলেন, অভিযানের পিছনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। তাঁর ভাষায়, “প্রথমত, আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাতেও স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোই ছিল আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

তিনি জানান, ভোরের দিকে অভিযান চালানো আরও সুবিধাজনক হতো। কিন্তু ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ফজরের নামাজে বহু সাধারণ মানুষ জড়ো হন। সেই সময় হামলা হলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারত। তাই চিন্তাভাবনা করে রাত ১টা থেকে দেড়টার সময় বেছে নেওয়া হয়।

ভারতীয় সেনার দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ লস্কর-ই-ত্যায়বা ও জইশ-ই-মহম্মদের একাধিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র, অস্ত্রাগার ও ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। মুজফ্‌ফরাবাদ, কোটলি, রাওয়ালকোট, চকসওয়ারি, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝিলম ও চকওয়ালে ছোড়া হয় মোট ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র। রাত ১টা বেজে পাঁচ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানের মেয়াদ ছিল মাত্র ২৫ মিনিট।

সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্নত নির্ভুল অস্ত্রশস্ত্র এবং রিয়্যাল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেই একযোগে হামলা চালানো হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত হানা সম্ভব হয় এবং জঙ্গি ঘাঁটিগুলি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

প্রেক্ষাপট

গত ২২ এপ্রিল বৈসরন উপত্যকায় (যা ‘মিনি সুইৎজ়ারল্যান্ড’ নামে পরিচিত) পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলায় একাধিক প্রাণহানি ঘটে। সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার জবাব দিতেই ভারতের সামরিক নেতৃত্ব ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরিকল্পনা নেয়।

👉 সেনা সর্বাধিনায়কের বক্তব্যে পরিষ্কার, অভিযানের সময় নির্ধারণে মানবিক দিকটিই ছিল মুখ্য বিবেচনা।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.