গাজায় শীতকালীন দুর্দশা চরমে, আশ্রয়হীন মানুষ “শীতের যুদ্ধ” মোকাবিলা করছে
গাজা উপত্যকায় টানা তিন দিন ধরে চলা প্রবল বর্ষণ ও শীতের দাপটে মানবিক সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও বাস্তুচ্যুত জনগণের জন্য এ যেন “শীতের আরেক যুদ্ধ”—যেখানে মাথা গোঁজার মতো সুরক্ষিত কোনো আশ্রয়ও নেই।
গাজার বহু অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা লাখো মানুষ এখনো দুর্বল এবং ক্ষতিগ্রস্ত তাঁবুতেই বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এসব তাঁবুর বেশির ভাগই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে শত শত নয়, সম্ভবত হাজার হাজার তাঁবু জলে তলিয়ে গেছে। ভিজে গেছে বাসিন্দাদের কাপড়, খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নথিপত্র। অনেক তাঁবু জোয়ারের মতো বর্ষার পানিতে ভেসেও গেছে।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের ফলে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে তাঁরা বাধ্য হয়ে অস্থায়ী তাঁবুতেই জীবন কাটাচ্ছেন। এবারের প্রথম শীতের বৃষ্টিই স্পষ্ট করে দিয়েছে—এই মৌসুমটি গাজার প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে।
এদিকে অন্য এক উন্নয়ন হিসেবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দুই ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে—ওয়াশিংটন রাফাহ অঞ্চলে অবরুদ্ধ হামাসের যোদ্ধাদের বিষয়ে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তেল আভিভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান হলে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়েও আলোচনায় নজর রয়েছে, যা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে শিগগিরই আলোচনার কথা রয়েছে।