ইয়েমেনের হাজ্জা প্রদেশে ২৫টি সরকারি স্কুলের নাম পরিবর্তন, শিক্ষাকে রাজনীতিকরণে হুথিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হাজ্জা প্রদেশে হুথি গোষ্ঠী ২৫টি সরকারি স্কুলের নাম পরিবর্তন করেছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সমাজকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থার রাজনীতিকরণ ও মতাদর্শিক প্রভাব বিস্তারের অংশ, যা দেশের জাতীয় পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্থানীয় শিক্ষাসূত্রের দাবি, হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা দপ্তর একটি নির্দেশ জারি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত স্কুলগুলোর নাম বদলে মতাদর্শিক ও সাম্প্রদায়িক ধাঁচের নামকরণ করেছে। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষকসমাজ বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ।
শিক্ষাবিদদের মতে, স্কুলের নাম পরিবর্তন নিছক আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বৌদ্ধিক গঠনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি কৌশল। তাঁদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরপেক্ষ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে মতাদর্শিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। এক শিক্ষক জানান, হঠাৎ করেই পুরোনো নামের সাইনবোর্ড খুলে নতুন নাম বসানো হয়েছে, যা শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন। অন্যদিকে, একাধিক অভিভাবক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি আরও ত্বরান্বিত হবে, যখন ইতিমধ্যেই স্কুলগুলো শিক্ষক সংকট, বেতন বকেয়া ও শিক্ষাসামগ্রীর অভাবে ভুগছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিক্ষাকে মতাদর্শিক হাতিয়ার বানালে সমাজে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর। তাঁদের মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইয়েমেনের শিক্ষক সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের নাম পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্ত শিক্ষাখাতের সংকট আরও বাড়াবে।
সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ইয়েমেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা রক্ষা, শিক্ষকদের বেতন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।