দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় যুবক নিহত; সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে ইউনিফিলের সতর্কবার্তা
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শনিবার সকালে জোতার আল-শারকিয়া এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালালে এক লেবাননি যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয় সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, কামেল রেদা কারনাবশ নামের ওই যুবকের গাড়ির ওপর ইসরায়েলি ড্রোন দুটি নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আঘাত হানে। হামলার পর দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, বেন্ত জবাইল এলাকার ফ্রুন গ্রামে তারা আলাদা একটি আকাশ হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি—টার্গেট করা ব্যক্তি ‘হিজবুল্লাহ’র সদস্য এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত ছিলেন। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিখাই অ্যাডরিই সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে বলেন, সীমান্ত–সম্পর্কিত চুক্তি লঙ্ঘন করায় ওই হামলা পরিচালিত হয়।
গত শুক্রবারও ফ্রুন এলাকায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় বলে জানিয়েছিল লেবাননের জনস্বাস্থ্য জরুরি বিভাগ।
ইউনিফিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের অস্থায়ী বাহিনী ইউনিফিলের প্রধান ডিওদাতো আবানইয়ারা লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা শ্রদ্ধার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে লেবানন সেনাবাহিনীই ইউনিফিলের প্রধান অংশীদার, আর দক্ষিণাঞ্চলে তাদের পুনরায় মোতায়েন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এক বছর আগে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষিতে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যে অস্ত্রবিরতি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ইসরায়েল বলছে, তাদের হামলা ‘হিজবুল্লাহ’র সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে ঠেকাতে অপরিহার্য।