ঢাকায় যাচ্ছেন জাকির নায়েক: বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে বড় ঘটনা
ঢাকা, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় চিন্তাবিদ ড. জাকির নায়েক। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘মেগা লেকচার ইভেন্ট’-এ তিনি অংশ নেবেন। ২৮ বা ২৯ নভেম্বর ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত হতে পারে তার প্রথম প্রোগ্রাম।
এই সফরের আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রোপাইটার আলি রাজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নায়েকের সফরটি শুধুমাত্র ঢাকায় নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও অনুষ্ঠিত হবে। তবে, এটি কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং এক entirely চ্যারিটি প্রোগ্রাম হিসেবে পরিচালিত হবে।
ড. জাকির নায়েকের আগমন বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে একটি বড় ও অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার সফরের অপেক্ষায় ছিলেন।
২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিসান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ সরকার পিস টিভি নিষিদ্ধ করেছিল, কারণ হামলাকারীদের একজন দাবি করেছিলেন যে সে জাকির নায়েকের বক্তৃতা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল। এরপর থেকে নায়েকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হয়নি।
তবে, বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে, বিশেষত মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অনুমোদনে এই সফর সম্ভব হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, ইউনূস সরকার তার এক মাসব্যাপী সফরের অনুমোদন দিয়েছে।
এদিকে, জাকির নায়েক এর আগে পাকিস্তানেও সফর করেছেন এবং সেখানে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তার বক্তৃতাগুলি বিশ্বজুড়ে অনেক মুসলিম সমাজের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
নায়েক ইসলাম ধর্মের প্রচারক হিসেবে পরিচিত এবং তার বক্তৃতাগুলি বিশেষ করে ধর্মীয় আলোচনায় এবং ইসলামের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ প্রদান করে। তবে তার বিরুদ্ধে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) মামলাও দায়ের করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই সফরটি একটি সুপরিকল্পিত সফর হতে পারে, যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
এদিকে, নায়েক বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন, এবং ব্রিটেন ও কানাডা তাকে ভিসা দেয়নি। তবে, তার পিস টিভির মাধ্যমে তিনি ইসলামের প্রচার চালাচ্ছেন, এবং উর্দু ও বাংলা ভাষায় চ্যানেল পরিচালনা করছেন।